ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত যত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি

0
14
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত যত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য এক নজিরবিহীন মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনের টানা সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান, ইসরায়েলসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই যুদ্ধকে বর্তমান দশকের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংকট হিসেবে অভিহিত করছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’-এর তথ্যমতে, ইরানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তাদের প্রায় ২ হাজার বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ১৭টি নৌ-জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনসহ অন্তত ৪৯ জন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন।

পাল্টা আক্ষেপে ইরানও ইসরায়েলের ওপর শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরের একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ৮ জন নিহত হওয়া সহ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনে মোতায়েন করা ৬ মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই যুদ্ধের দাবানল দ্রুত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। যুদ্ধের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ায় জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি ও এএফপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here