লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে সংঘাত এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে (বুধবার ভোররাতে) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রধান প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (IAI)-এর সদর দপ্তরে একঝাঁক আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর বিবৃতি অনুযায়ী, মধ্য ইসরায়েলে অবস্থিত আইএআই সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোনগুলো নিক্ষেপ করা হয়। উল্লেখ্য, এই সংস্থাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মূল উদ্ভাবক ও প্রস্তুতকারক। এর পাশাপাশি, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা উত্তর ইসরায়েলের একটি ‘ড্রোন কন্ট্রোল বেস’ বা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে তারা লেবানন থেকে আসা বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। আইএআই সদর দপ্তরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা তারা সরাসরি স্বীকার না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে স্থাপনাটিতে আগুনের শিখা দেখা গেছে। হামলার পর উত্তর ইসরায়েলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহর এই হামলাকে সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এই হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিলেও গোষ্ঠীটি তা উপেক্ষা করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের গভীরে থাকা স্পর্শকাতর সামরিক অবকাঠামোতে হিজবুল্লাহর এই আঘাত হানার সক্ষমতা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।