ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত রায় পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশ পরিচালনায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের স্বার্থে জামায়াত অনেক কষ্টে এই কারচুপির ফলাফল মেনে নিয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ইয়াসির আরাফাত এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী অন্তত ১৬০টি আসনে জয়ের আশা করলেও একটি পরিকল্পিত ছকের মাধ্যমে সেই সংখ্যাকে ১০০-এর নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোট গণনায় মেকানিজম ও টেম্পারিং করা হয়েছিল। যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর থেকে নির্দিষ্ট কোনো দলকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করেছেন, তারা আজ ক্ষমতার উচ্চাসনে বসেছেন। খলিলুর রহমান সাহেব সেই সার্ভিসের পুরস্কার হিসেবেই আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন। এর আগে কোনো নির্দলীয় সরকারের আমলে এমন নজির আমরা দেখিনি।”
বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পেছনে কারা জড়িত ছিল, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে একটি সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং প্রশাসনের সব স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ দিচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন অপপ্রচারেরও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কিছু মিডিয়া ও টকশো ব্যক্তিত্ব জামায়াতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তকমা লাগানোর চেষ্টা করে, যার কোনো প্রমাণ বাংলাদেশে নেই। কোনো অপপ্রচার চালিয়ে জামায়াতকে দমানো যাবে না।” তিনি সরকারকে ‘জুলাই সনদ’ এড়িয়ে না যাওয়ার এবং ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।