রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ঘটা ভয়াবহ বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোড সংলগ্ন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ধসে পড়েছে এবং আসবাবপত্র চুরমার হয়ে গেছে।
দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন রুবেল (৩০), তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), তিন বছরের শিশু রোজা, রুবেলের দুবাই প্রবাসী ভাই এনায়েত (৩২), তাঁর স্ত্রী দেলেরা (২৮) ও সন্তান জুনায়েদসহ (১০) পরিবারের অন্য সদস্যরা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এনায়েত সম্প্রতি দুবাই থেকে দেশে ফিরে মাদারীপুর থেকে সপরিবারে উত্তরার এই বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভবনের অন্য বাসিন্দারা জানান, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের পর ঘরের ভেতর থাকা ১০ জনকেই দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনোভাবে গ্যাসের পাইপ থেকে লিকেজ হয়ে ঘরের ভেতর গ্যাস জমে ছিল এবং ভোরে আগুন জ্বালাতে গেলেই বিস্ফোরণটি ঘটে। খুশির আমেজে মেহমানদের নিয়ে থাকা পরিবারটিতে মুহূর্তেই এমন বিয়োগান্তক ছায়া নেমে আসায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, দগ্ধদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীর অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। কত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে তা নিরূপণের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিস্ফোরণের সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।