জামালপুরে লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি তেল মিলছে না

0
24
জামালপুরে লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি তেল মিলছে না

জামালপুর শহরে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে ভিড় করেন চালকরা। তবে বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ থাকায় অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভবিষ্যতে তেলের সংকট ও দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে চালকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন।

শহরের রায়হান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে সীমিত আকারে তেল সরবরাহ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতি মোটরসাইকেলে দুই লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছিল। পাম্পটিতে প্রায় ৭০০ লিটার তেল মজুত থাকলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এতে অনেক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মেসার্স জাবেদ ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছিল। তবে শহরের আরও কয়েকটি পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা।

চালকদের অভিযোগ, জামালপুরে সবচেয়ে বেশি তেল সরবরাহ হয় জুঁই এন্টারপ্রাইজে। শুক্রবার সকাল থেকে পাম্পটি বন্ধ ছিল। এছাড়া মেসার্স খাজা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে। পাম্পটিতে ব্যানারে ‘যানবাহন ব্যতীত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা নিষেধ’ লেখা থাকলেও যানবাহন নিয়ে গিয়েও অনেকে তেল পাননি বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী বাইক চালক আক্তারুজ্জামান বলেন, ইসলামপুরে যাওয়ার জন্য তার অন্তত দুই লিটার তেল প্রয়োজন ছিল। এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি। বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল রেখে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে। আরেক চালক তানজিদ রহমানের অভিযোগ, পাম্পগুলো তেল মজুত করে সিন্ডিকেট করছে।

টাঙ্গাইল থেকে আসা রকিব বলেন, বোনের বাসা থেকে ফেরার কথা থাকলেও সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল পাননি। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, কোনো পাম্প হঠাৎ করে বন্ধ রাখা যায় না। তেল মজুত থাকলে তা সরবরাহ করতে হবে এবং সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর শহরে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকরা। শহরের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here