জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১টার দিকে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী হোসেন তাইফুরকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত তাহমিনা আক্তার তানিয়া দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হোসেন তাইফুরের সঙ্গে তাহমিনার ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। নিহতের ছোট ভাই তুহিন ফয়সাল অভিযোগ করেন, তাঁর দুলাভাই মাদকাসক্ত ছিলেন, যার ফলে কলহের জেরে তাহমিনা বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতেই থাকতেন। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাহমিনা স্বামীর বাড়িতে যান এবং এরপরই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ১টার দিকে ওই বাড়িতে আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর পর ঘর থেকে তাহমিনার দগ্ধ ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তাইফুরকে আটক করা হয়।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাতের অন্ধকারে তাইফুর তাঁর স্ত্রীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর প্রমাণ নষ্ট করতে বিছানায় মরদেহ রেখে তাতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ বর্তমানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।