জর্ডানে ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ধ্বংস করল ইরান

0
21
জর্ডানে ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ধ্বংস করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘এএন/টিপিওয়াই-২’ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত এই রাডারটির মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলোতে ইরানের নিখুঁত হামলায় আরটিএক্স করপোরেশনের তৈরি এই রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্র্যাসিস (এফডিডি)-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি ইরানি হামলা পরিচালিত হয়। ধ্বংস হওয়া রাডারটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত উন্নত ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করত।

থিংকট্যাংকটির সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, থাড রাডার লক্ষ্য করে হামলাটি সফল হওয়ায় এটি এখন পর্যন্ত ইরানের সবচেয়ে সফল হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকো এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বিরাট ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে। ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দুষ্প্রাপ্য এই সম্পদ হারানোয় আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ছিদ্র তৈরি হলো।

থাড ব্যবস্থা মূলত বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই রাডারটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষার পুরো দায়িত্ব পড়েছে স্বল্পপাল্লার ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর। তবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে ব্যবহৃত পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বর্তমানে ফুরিয়ে আসছে, যা মার্কিন বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে যুদ্ধের শুরুতেই কাতারে স্থাপিত একটি প্রাথমিক সতর্কতা রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ইরানি ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে চরম চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডার ধ্বংস হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে পেন্টাগন ইতিমধ্যেই লকহিড এবং আরটিএক্স-এর মতো বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here