বিপদগ্রস্ত ইরানি নাবিকদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত শ্রীলঙ্কা

0
27
বিপদগ্রস্ত ইরানি নাবিকদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত শ্রীলঙ্কা

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেও মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে শ্রীলঙ্কা। ভূ-রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে সংকটে পড়া দুই শতাধিক ইরানি নাবিককে উদ্ধার ও আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, কলম্বোর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ‘সাহসী ও নীতিবান’।

গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাবমেরিনের আঘাতে কোনো রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিরল। এই ঘটনার পর লঙ্কান নৌবাহিনী দ্রুত অভিযানে নেমে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে এবং ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে গলে উপকূলে চালানো এই উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যে জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আইআরআইএস বুশেহর নামের আরেকটি ইরানি জাহাজ ইঞ্জিন বিকল হয়ে লঙ্কান জলসীমার কাছে আটকা পড়ে। হেলিকপ্টার প্যাডযুক্ত এই লজিস্টিক জাহাজটি সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত ‘মিলান ২০২৬’ বহুজাতিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও ইরান সরকারের অনুরোধে শ্রীলঙ্কা জাহাজটিকে নিজেদের বন্দরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনো সাধারণ পরিস্থিতি নয়। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন অনুযায়ী একটি পক্ষের অনুরোধে আমরা জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি আরও লিখেছেন, যুদ্ধে কোনো সাধারণ মানুষের মৃত্যু কাম্য নয়। আমাদের নীতি হলো, প্রতিটি জীবনই আমাদের নিজেদের জীবনের মতো মূল্যবান।

শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সাম্পাত বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ভারত মহাসাগরে তাদের নির্ধারিত তল্লাশি ও উদ্ধার এলাকা থেকেই এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রথমে কলম্বো বন্দরে আনা হচ্ছে এবং জাহাজটিকে পরবর্তীতে একটি পূর্ব দিকের বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হবে। চিকিৎসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষে নাবিকদের কলম্বোর উত্তরের ওয়েলিসারা নৌঘাঁটিতে রাখা হবে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কার্ল ঝা শ্রীলঙ্কাকে ‘ভারত মহাসাগরের প্রকৃত অভিভাবক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সাংবাদিক রায়ান গ্রিম এবং সাংবাদিক রাঙ্গা সিরিলালও কলম্বোর এই নিরপেক্ষ ও মানবিক অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। নেটিজেনরা বলছেন, রাজনীতি সরিয়ে রেখে যেভাবে শ্রীলঙ্কা বিমান ও জাহাজ মোতায়েন করেছে, তা-ই প্রকৃত মানবতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, চরম মেরুকরণের এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে, যুদ্ধ বা রাজনীতি যা-ই হোক না কেন, সাগরে বিপদগ্রস্ত নাবিকদের রক্ষা করাই সমুদ্রসীমার চিরন্তন ও প্রধান নীতি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here