জাহাজ বাড়িতে ৯ তরুণ হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি ৬ এপ্রিল

0
21
জাহাজ বাড়িতে ৯ তরুণ হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি ৬ এপ্রিল

রাজধানীর মিরপুরের জাহাজ বাড়িতে ২০১৬ সালে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৮ মার্চের মধ্যে তাদের হাজির হতে বলা হলেও নির্ধারিত তারিখে কেউ উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাদের পলাতক ঘোষণা করে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।

এই মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া কারাগারে রয়েছেন। পলাতক অপর আসামিরা হলেন তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, কৃষ্ণপদ রায় এবং আব্দুল বাতেন। গত ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করার পর আদালত তা আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার ছাত্র ও ইসলামমনা তরুণ মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ, রায়হান, মতিউর রহমান, জুবায়ের হোসেন, সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক, তাজ উল হক ওরফে রাশিক, আবু হাকিম ওরফে নাঈম, আকিফুজ্জামান খান এবং অজ্ঞাতনামা একজনকে বিভিন্ন সময় অপহরণ করে ডিবি কার্যালয় ও সিটিটিসির গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরে তাদের মিরপুরের কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত ভবনের পাঁচ তলায় নিয়ে জঙ্গি আস্তানা নাটক সাজানো হয়। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে পুলিশ ও সিটিটিসির সোয়াট টিমের যৌথ অভিযানে ৯ তরুণকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রকিবুল হাসান নামের এক তরুণ গুরুতর আহত হন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম অভিযানে ব্যবহৃত গুলি সোয়াট সদস্যদের নামে বণ্টন দেখিয়ে ঘটনাটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মিথ্যা জব্দ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। আইজিপি একেএম শহীদুল হক অধস্তনদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বিষয়টি অবহিত করেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় পদক (বিপিএম, পিপিএম) দিয়ে পুরস্কৃত করেন, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে উৎসাহ ও সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here