ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টায় পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই তাদের দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে। ভারতে আটক এই দুই আসামিকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনাকে বিরল উল্লেখ করে তাদের ফেরতে বিলম্ব হতে পারে কি না—এমন আশঙ্কার বিষয়েও আইজিপি আশ্বস্ত করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হবে। তবে কৌশলগত কারণে আপাতত তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির বিষয়ে আইজিপি বলেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। পুলিশকে কাজ করার জন্য যৌক্তিক সময় (রেসপন্স টাইম) দিতে হবে। তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে তদন্তে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যেমনটি অতীতে ‘জজ মিয়া’ নাটকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
আইজিপি দাবি করেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটি শনাক্ত করতে পুলিশ সফল হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, অনেক সময় পুলিশের চেয়ে সাংবাদিকদের কাছে বেশি তথ্য থাকে, যা তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং অতিরিক্ত আইজি সরদার নূরুল আমিন।