
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আহমেদাবাদে স্বাগতিক ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে। টানা দ্বিতীয়বার এবং প্রথম দল হিসেবে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছে রোহিত শর্মার দল। এই শিরোপা জয়ের পথে ভারত ভেঙে চুরমার করেছে একাধিক রেকর্ড।
রেকর্ডের খাতা:
৩য় শিরোপা: ভারত ২০০৭ ও ২০২৪ সালের পর তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১২ ও ২০২৬) ও ইংল্যান্ড (২০১০ ও ২০২২) দুইবার করে শিরোপা জিতেছিল।
টানা চ্যাম্পিয়ন: ভারতই প্রথম দল যারা টানা দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করল। একই সঙ্গে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে ওঠার এবং ঘরের মাঠে শিরোপা জেতার অনন্য নজিরও গড়ল তারা।
রান উৎসব: ফাইনালে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২৫৫ রান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ। এর আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত করেছিল ২৫৩ রান। এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফাইনালে কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ ছিল ইতালির ২৪৪ রান।
বড় জয়: নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয় পেল ভারত। এর আগে নামিবিয়ার বিপক্ষে তাদের ৯৩ রানের জয় ছিল সর্বোচ্চ।
বোলিং চমক: জাসপ্রীত বুমরাহ ফাইনালে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন, যা টি-টোয়েন্টি ফাইনালে কোনো পেসারের সেরা বোলিং। এর আগে ২০১২ সালে অজন্তা মেন্ডিস ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।
দ্রুততম ফিফটি: ফাইনালে অভিষেক শর্মা মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে দ্রুততম। তিনি ভেঙেছেন ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেলের ১৯ বলের রেকর্ড।
স্যামসন শো: ফাইনালে সাঞ্জু স্যামসন ৮৯ রান করেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। তিনি মারলন স্যামুয়েলস ও কেন উইলিয়ামসনের ৮৫ রানের রেকর্ড ভাঙেন। একই সঙ্গে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে টানা ফিফটি করে তিনি শহীদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির ক্লাবে নাম লেখান।
ওপেনিং জুটি: অভিষেক ও স্যামসন মিলে ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন, যা বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসানের ৪৮ রানের।
পাওয়ার প্লে: ভারত পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৯২ রান তোলে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ।
ছক্কার বৃষ্টি: এই টুর্নামেন্টে সাঞ্জু স্যামসন মোট ২৪টি ছক্কা মেরেছেন, যা এক আসরে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ।