মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের নতুন ধাপ হিসেবে সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলখনি ‘শায়েবাহ’ লক্ষ্য করে ফের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৯ মার্চ) ভোরের দিকে ৪টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। তবে সৌদি আরবের শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সময়মতো সবগুলো ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি শায়েবাহ তেলখনিতে ইরানের চতুর্থ দফার হামলা। গত ৯ দিনের মধ্যে এই খনিটি তিনবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার যে রণকৌশল ইরান নিয়েছে, এটি তারই অংশ।
রোববার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানকে এই ধরনের হামলার পরিণাম নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিল। রিয়াদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রতিবেশী দেশের তেল অবকাঠামোতে আঘাত অব্যাহত রাখলে ইরানকে এই যুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ পরাজয়ের’ মুখ দেখতে হবে। তবে সেই হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ড্রোন পাঠাল তেহরান।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরব ও কাতারের মতো জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশগুলোর ওপর ধারাবাহিক এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আরব মিত্রদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দ্রুত কোনো মধ্যস্থতা না হলে এই ড্রোন যুদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।