ঝালকাঠির নলছিটিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। এ সময় তিনি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা ও বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সর্বাত্মক সহায়তা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে মাসুমা হাদি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজয়নগর কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে রিকশায় যাওয়ার পথে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন তার ভাই শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার ৮৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ঘটনার দিনই শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর কীভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভারতে শুটার ফয়সাল করিম এবং তার সহযোগী আলমগীর গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান নিহতের বোন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থ জোগানদাতা এবং খুনিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সরকারের কাছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের জোর দাবি জানানো হয়।
মাসুমা হাদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তদন্তে কোনো প্রকার দায়সারা চার্জশিট দেওয়ার অপচেষ্টা করা হলে তা পরিবার এবং সাধারণ জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচারকার্য নিয়ে কোনো নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভাই হারানোর বেদনা বহন করছেন, তাই তিনি এই স্বজন হারানোর যন্ত্রণা নিশ্চয়ই অনুভব করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শরীফ ওসমান বিন হাদির ভগ্নিপতি মনির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল কবির রানা, মুফতি হানযালা নোমানী, স্বেচ্ছাসেবক শাহাদাত আলম ফকির ও সাথী আক্তার প্রমুখ।