মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর ওই স্থাপনা থেকে আকাশে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানটি হলো বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, যা দেশটির প্রধান তেল শোধনাগার পরিচালনা করে। এটি বাহরাইনের জ্বালানি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। দেশটির জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এই কোম্পানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হামলার পর তেল শোধনাগারটির বিভিন্ন অংশ থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের মতো শব্দও শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে।
প্রাথমিকভাবে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ইরানি ড্রোন হামলার কারণে তেল শোধনাগারে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় স্থাপনাটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত— সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার কিছুক্ষণ পরই তেল শোধনাগারটির দিক থেকে আকাশে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, স্থাপনাটির ভেতরে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে হামলার পর বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে চুক্তি অনুযায়ী তারা নির্ধারিত তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা আপাতত পূরণ করতে পারছে না।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর বাহরাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শোধনাগারটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত হামলার বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।