ইরাকের আকাশসীমা, ভূমি বা জলসীমাকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে তিনি এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ছায়া যুদ্ধের (Proxy War) কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইরাক যাতে নতুন করে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সুদানি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। প্রতিবেশী কোনো দেশ বা অঞ্চলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমাদের কোনো সম্পদ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মার্কিন ফাইটার জেট ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিভিন্ন দিক থেকে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে আসছিল। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাঁর উদ্বেগের কথা সরাসরি তুলে ধরেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন স্থাপনাগুলোও চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গত শনিবার বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যা ইরাকের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, ইরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট কমপ্লেক্সের আকাশে প্রতিদিন উড়ে আসা ড্রোনগুলোকে রুখতে ব্যস্ত সময় পার করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের মাঝে ইরাক এখন এক কঠিন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি।