চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক বড়সড় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ গ্রুপের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি এসএমজি, বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিদেশি রিভলভার, ব্রাজিলিয়ান টরাস পিস্তল ও এসএমজি। পুলিশ জানায়, চকবাজার থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করে। কাইয়ুম বহদ্দারহাটে সংঘটিত বহুল আলোচিত ‘এইট মার্ডার’ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং বড় সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী। তার দেওয়া তথ্যে চকবাজার এলাকা থেকে পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে কাইয়ুমের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির নামের আরেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকে ডবলমুরিং থানা থেকে লুণ্ঠিত একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে মনিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে তাদের সহযোগী সায়েমকে আটক করা হয় এবং খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, এসব ভারী অস্ত্র খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার কাইয়ুমের মোবাইল ফোন থেকে বড় সাজ্জাদ গ্রুপে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপও পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র দিয়েই সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে একাধিক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা নিশ্চিত হতে ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামীর চালিতাতলী এলাকার সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অপরাধজগতে উত্থান ঘটে ১৯৯৯ সালে। ২০০০ সালে বহদ্দারহাটে ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীসহ আটজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনায় তার নাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদ মুঠোফোনে তার বাহিনীর ২৫ জন সক্রিয় সদস্যকে নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনার নেপথ্যেও এই বাহিনীর হাত রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।