জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা: মামুনুল হক

0
21
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা: মামুনুল হক

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।

বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক বিএনপির উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যতা ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও আজ কেন জামায়াত-খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য দলগুলো বিপরীত অবস্থান নিয়েছে, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনের পর ‘দুরভিসন্ধি’ আঁটছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ছাত্র-জনতার হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে চায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৬৮ শতাংশ মানুষের ভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে জনগণ আবারও রাজপথ দেখাবে।”

বৈঠকে আলোচকরা সরকারের পক্ষ থেকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গড়িমসির কঠোর সমালোচনা করেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, কেন আইনমন্ত্রীর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এবং সরকার কেন জনমতের ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে হাঁটছে। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের দাবি করেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই ঐকমত্য কমিশনের প্রতিটি মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন, এখন তার বিরোধিতা করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নেতৃত্বের দুর্বলতা ও দ্বিমুখী অবস্থানকে দায়ী করেন। শিশির মনির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সরকার গঠনের আগের ও পরের বক্তব্যের বৈপরীত্য তুলে ধরে বলেন, সরকার গণভোট ও জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা লৌকিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে। তিনি দাবি করেন, পর্দার আড়ালে কোনো শক্তি এই বিভক্তির খেলা খেলছে।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একমত হন যে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান কোনো প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর ফল নয়, বরং এটি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। তাই সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ ও পিআর (অনুপাতিক হারে) নির্বাচনের দাবি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তারা স্পষ্ট করেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই সনদ আইনি জয় লাভ না করবে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here