নাহিদ রানা আর মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং তোপে কোনোমতে একশ পেরিয়েই গুটিয়ে গেল পাকিস্তান। পরে ঝড়ো ব্যাটিং উপহার দিলেন তানজিদ হাসান। সফরকারীদের ব্যাটে-বলে নাস্তানুবুধ করে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৩০.৪ ওভারে স্রেফ ১১৪ রানে গুটিয়ে ১৫.১ ওভারেই লক্ষ্য পূরণ করেন টাইগাররা।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক নাহিদ রানা। ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার তানজিদ।
রান তাড়ায় তৃতীয় ওভারে দলীয় ২৭ রানে সাইফ হাসানকে (১০ বলে ৪) হারানোর পর আর পিছনে ফিরতে হয়নি টাইগারদের। ৬৭ বলে ৮২ রানের জুটি গড়ে জয়ের বন্দরে গিয়ে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। মোহাম্মাদ ওয়াসিমের বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন এই টপঅর্ডার ৩৩ বলে ৫ চারে ২৭ রান করে।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ১৬১ ছিল তাদের আগের সর্বনিম্ন।
টস জিতে বল বেছে নেয় বাংলাদেশ। নিজের টানা প্রথম ৫ ওভারে ৫ উইকেট নেন নাহিদ।
অভিষিক্ত দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাতের ব্যাটে পাকিস্তানের শুরুটা মন্দ ছিল না। নাহিদ এসে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন দশম ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে সাহিবজাদাকে (৩৮ বলে ২৭) ক্যাচ বানিয়ে।
পরের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাঁকাতে গিয়ে আকাশে তুলেছিলেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হুসাইন। বল তালুবন্দি করতে পারেননি তানজিদ হাসান। পরের ওভারেই অবশ্য শামিল ফেরেন নাহিদের শিকার (৭ বলে ৪) হয়ে। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় উপরে উঠে। উইকেটরক্ষক লিটন দাস সহজে তা গ্লাভসবন্দি করেন।
নিজের পরের তিন ওভারেও উইকেটে দেখা পান নাহিদ। এবার তার বলে ফাইন লেগে সাদাকাতের সহজ ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। ২৮ বলে সাদকাত করেন ১৮ রান।
মোহাম্মাদ রিজওয়ানও (২০ বলে ১০) নাহিদের বলে ক্যাচ দেন উইকেটে পিছনে। নিজের পঞ্চম ওভারে শর্ট বলে শর্ট স্কয়ার লেগে তানজিদের হাতে ক্যাচ দেন সালমান আলি আগা (৮ বলে ৫)।
আগের ৫ ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পাওয়া নাহিদ এবার এক ম্যাচে নিজের প্রথম ৫ ওভারেই পেলেন ৫ উইকেটের স্বাদ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এটি তার। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিলেন নাহিদ। ২০১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজও। সালমান ফেরার পরের ওভারে আরেক অভিষিক্ত আব্দুল সামাদকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানান এই অফ স্পিনা। ১৯ ওভারেই ৭০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা।
পরের দুই উইকেটও যায় মিরাজের ঝুলিতে। রিভিউ নিয়ে হুসাইন তালাতকে (১৪ বলে ৪) এলবিডব্লিউ করে ফেরান অধিনায়ক।
আগের ওভারে রিভিউ নিলে বাংলাদেশ পেত ফাহিম আশরাফের উইকেট। নাহিদ রানার বলে এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদন করলেও রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। পরে দেখা যায়, বল লাগত স্টাম্পে। রিভিউ নিলেই মিলত উইকেট।
একটি চার মেরেই থামেন শাহিন শাহ আফ্রিদিও। সফরকারী অধিনায়ককে শিকারে পরিণত করেন স্বাগতিক অধিনায়ক। তাকেও রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লিউ করেন মিরাজ।
সফরকারীরা তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে পারে মুলত ফাহিম আশরাফের ব্যাটে। আটে নেমে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন ৩৭ রান করে, মোস্তাফিজের বলে মিডউইকেটে তাসকিনকে ক্যাচ দিয়ে।
ইনিংসে একমাত্র ছক্কা ফাহিমের। সঙ্গে ৬ চারে ৪৭ বলে ৩৭ রানের ইনিংসটি সাজান এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।