সাময়িকভাবে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ইরানের পক্ষ থেকে তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে হুমকির কারণে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়া ঠেকানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তেলের দাম কম রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ইরানের হুমকি ও অস্থিরতার কারণে এ সিদ্ধান্ত দরকার ছিল।
তিনি জানান, বর্তমানে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কিনতে দেশগুলোকে অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যেন বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানো যায়।
স্কট বেসেন্ট আরো বলেন, এ সিদ্ধান্তটি খুব সীমিত এবং অল্প সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে। এটি শুধু সেই তেলের জন্য প্রযোজ্য হবে, যেগুলো এরইমধ্যে সমুদ্রপথে পাঠানো হয়েছে।
সিএনবিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল রাশিয়ান তেল রয়েছে। এটি বিশ্ববাজারে প্রায় ৫ থেকে ৬ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে।
বেসেন্ট বলেন, এ সিদ্ধান্ত থেকে রাশিয়ান সরকার খুব বেশি আর্থিক লাভ পাবে না। কারণ রাশিয়া মূলত তেল উত্তোলনের সময় কর নিয়ে তাদের জ্বালানি আয় করে।
তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের জ্বালানি নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আমেরিকানদের জন্য জ্বালানির দাম কম রাখতে সাহায্য করেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে তেলের দামে যে বৃদ্ধি হয়েছে তা সাময়িক, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় উপকার বয়ে আনবে।
এই বিশেষ ছাড় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে বৃহস্পতিবার তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক বাজারে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯.২% বেড়ে ১০০.৪৬ ডলারে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, শত্রুর ওপর চাপ সৃষ্টি করার উপায় হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে।