ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাত ১৪তম দিনে গড়িয়েছে। সিএনএন-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক কর্মীসহ নিহতের মোট সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের দাবানল ইরান সীমান্ত ছাড়িয়ে লেবানন, ইরাক, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ায় হু হু করে বাড়ছে প্রাণহানি।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ইরাকে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন পরিষেবা সদস্যের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারালেন। এর আগে কুয়েতে একটি অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে ইরানি হামলায় আরও ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ইরানে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত গত বুধবার ১৩০০ মানুষের মৃত্যুর কথা জানালেও মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ (HRANA)-এর দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৮৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭৭৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০৩ জনই শিশু। ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বেইত শেমেশ শহরের একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাতেই নয়জন নিহত হন।
আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্যসহ অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। কুয়েতে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলায় আমিরাতি, পাকিস্তানি ও নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি এক নাগরিকসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ওমান উপকূলে একটি তেল ট্যাঙ্কারে চালকবিহীন নৌকার হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক এবং সোহর জেলায় ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে আরও দুই বিদেশি নাগরিক নিহত হন। সৌদি আরবের আল-খারজ শহরে আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৪ দিনের এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।