পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৬টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো অনুযায়ী, দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ঈদের ছুটির সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পর্যাপ্ত পরিমাণে স্থাপন করতে হবে। জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে দেবেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ সার্বক্ষণিক সেবা অব্যাহত থাকে। এছাড়া সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে জেলায় অতি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা যাবে।
প্রতিটি হাসপাতালের অন্তবিভাগের ইউনিট প্রধানরা তাদের বিভাগের কার্যক্রম তদারক করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অন কল সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
ছুটির শুরু হওয়ার আগে পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ রাখতে হবে। ছুটির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবস্থান করবেন। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম অবহিত করতে হবে। এছাড়া সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভাগীয় প্রধানরা ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করবেন।
প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটি নিলে বিধি অনুযায়ী কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
ঈদের দিনে রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হবে। বহির্বিভাগ ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ সার্বক্ষণিক খোলা রাখতে হবে।
কোনো রোগী রেফার করার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করতে হবে। রেফার্ড রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
যেকোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। এই নির্দেশনাগুলো নিশ্চিত করবে, দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা ঈদের ছুটিতে অচল না হয়ে, সকল রোগীর জন্য নিরাপদ ও সুসংহতভাবে চলবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব ভাগাভাগি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করবেন। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তা অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঈদুল ফিতরের সময়ে নিরাপদ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করবে।