ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানের কেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়ে গত ছয় বছর ধরে বাসিজ ইউনিটের কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, লারিজানি জীবিত আছেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম লারিজানির হাতে লেখা একটি নোট প্রকাশ করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি নাবিকদের স্মরণ করা হয়েছে। তবে এটি তার জীবিত থাকার অকাট্য প্রমাণ কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আলি লারিজানি ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যিনি দীর্ঘ সময় পার্লামেন্টের স্পিকার এবং পারমাণবিক আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত শুক্রবারও তাকে তেহরানে আল-কুদস দিবসের সমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাশে দেখা গিয়েছিল।
যদি লারিজানির মৃত্যুর খবর সত্য হয়, তবে চলমান সংঘাতের মধ্যে এটি হবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লারিজানি ও সোলেইমানির নিহতের দাবি যুদ্ধের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।