উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সিরিজ ড্রোন হামলা, আমিরাতে প্রাণহানি

0
22
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সিরিজ ড্রোন হামলা, আমিরাতে প্রাণহানি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ফুজাইরাহ রাজ্য সরকারের মিডিয়া অফিস জানায়, দুবাই থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই জ্বালানি কেন্দ্রে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে গত শনিবারও একই স্থানে ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লেগেছিল।

এদিকে মঙ্গলবার আবুধাবিতে একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে। হামলার তীব্রতায় আকাশজুড়ে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে দেশটির আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতির কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকে আমিরাত সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হচ্ছে; ইরান এ পর্যন্ত তাদের দিকে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি মঙ্গলবার কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতও একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। কাতারের দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর পাবলিক সেফটি অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলে আটটি ড্রোন এবং কুয়েত দুটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট জিসিসি (GCC) এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here