সাতক্ষীরা শহরের পৃথক দুটি স্থান থেকে সজীব দত্ত নামের এক তরুণ চিকিৎসক ও আব্দুর রাজ্জাক নামে এক নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া ও রসুলপুর এলাকায় তাদের মরদেহ ঝুলে থাকার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
চিকিৎসক সজীব দত্ত (২৭) শহরের কাটিয়া এলাকার তপন দত্তের ছোট ছেলে। আর আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) শহরের রসুলপুর এলাকায় ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ের মালিকের বাড়িতে কেয়ারটেকার ও নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের শামসুদ্দীন সরদারের ছেলে।
সজীবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে কয়েকমাস আগে এফসিপিএস পড়তে লন্ডনে যান। গত সোমবার তিনি লন্ডন থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
সজীবের প্রতিবেশী উৎপল সাহা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সজীব তার ঘরে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে তার মা কাঞ্চন দত্ত পূজা দিতে ছেলের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন। এতে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারেন এবং ছেলেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তবে তার আত্মীয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর তার মধ্যে মানসিক একটি অস্থিরতা দেখতে পাওয়া যায়। লন্ডনে তিনি তার বড় ভাইয়ের বাসায় উঠেছিলেন।
অন্যদিকে, একই সময়ের দিকে শহরের কদমতলা বাজার সংলগ্ন রসুলপুর গ্রামে শহরের মেসার্স ফালগুনী বস্ত্রালয়ের মালিক আব্বাস আলী বাড়ির একটি আম গাছে বাড়ির নৈশপ্রহরী ও কেয়ারটেকার আব্দুর রাজ্জাকের মরদেহ দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ভোরে আব্দুর রাজ্জাক পরিবারের সবার সঙ্গে সেহরি খেয়েছেন। ভোরে বাড়ির একটি আম গাছে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) সুশান্ত ঘোষ জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অধিকতর তদন্ত শেষে এই দুজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।