নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া গ্রামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম ফারহানা (২৬)। তিনি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের কালাচানের মেয়ে।
জানা যায়, নিহত ফারহানার দুটি সন্তান রয়েছে-একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ফারহানা তার স্বামী সাগর মিয়ার সঙ্গে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যের বাজার এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সাগর মিয়া পেশায় কাপড়ের দোকানের কর্মচারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সাগর মিয়ার পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের দ্বিতীয় দিন (২২ মার্চ) সকালে সাগর মিয়া কর্মস্থলে চলে যান। যাওয়ার সময় সাগরের মা তাকে জিজ্ঞেস করেন, “আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন, এত সকালে কোথায় যাচ্ছিস? বউকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাবি না?” জবাবে সাগর মিয়া জানান, তার জরুরি কাজ রয়েছে। পরে ফারহানা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন বলে জানান সাগরের মা।
কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে ছোট সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে পাশের ভাড়াটিয়ারা সন্দেহ করেন। পরে পাশের ভাড়াটিয়া ছগিরের সহযোগিতায় ফারহানার শাশুড়ি দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঘরের বারান্দার ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান। এ সময় ফারহানার শাশুড়ি ঝুলন্ত মরদেহ নামিয়ে ফেলেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই মরদেহ নামানো হয়, যা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ফারহানার বাবা কালাচাঁন সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
তদন্তকালে জানা যায়, নিহত ফারহানার বোন আনিকা অভিযোগ করেন যে, কিছুদিন পরপর টাকার জন্য সাগর মিয়া ফারহানাকে মারধর করতেন। তিনি আরও জানান, ঈদের তিন দিন আগে তিনি ২০ হাজার টাকা বোনের স্বামী সাগরের হাতে তুলে দেন।
অপরদিকে, স্থানীয়দের মতে সাগর মিয়া নারায়ণগঞ্জ এলাকায় পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফারহানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সাগর মিয়া নিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ফারহানার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। সোনারগাঁ থানার ওসি মহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।