ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযানের লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও নিউজমেক্স-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তবে পেন্টাগন সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না। তবে তিনি এও যোগ করেন, “যদি পাঠাতাম, তবে আমি আপনাদের তা বলতাম না।” এর ঠিক একদিন পরই সিবিএস নিউজ জানায়, শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্য নিয়ে সুনির্দিষ্ট চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ সামরিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় রয়েছে।
পরিকল্পনাটি জানাজানি হওয়ার পর হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানান, পেন্টাগনের কাজ হলো রাষ্ট্রপ্রধানকে সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত রাখা। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে কোনো স্থল সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সামরিক কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে যুদ্ধবন্দিদের রাখা এবং ইরানি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সামলানোর বিষয়েও আগাম বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো ‘নিরাপদ করা বা সরিয়ে নেওয়ার’ কৌশল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মাটির গভীরে হওয়ায় সেখানে পৌঁছাতে শুধু বিশেষ বাহিনী নয়, বড় ধরনের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হবে। এই মিশনটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
নিউজমেক্স-এর তথ্যমতে, প্রায় ৪ হাজার মার্কিন সেনা সদস্য ইরানে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা অন্তর্ভুক্ত। এই সেনাদের তিনটি উভচর জাহাজে রাখা হয়েছে, যেগুলোতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাহাজ থেকে স্থলে আক্রমণের উপযোগী যান রয়েছে। ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।