হরমুজ পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার নিচ্ছে ইরান: দাবি লয়েডস লিস্টের

0
18
হরমুজ পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার নিচ্ছে ইরান: দাবি লয়েডস লিস্টের

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। লয়েড’স লিস্ট এবং তুর্কিয়ে টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন থেকে এই রুট দিয়ে পারাপার হতে হলে জাহাজগুলোকে বিশেষ তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে এবং গুনতে হবে মোটা অঙ্কের ট্রানজিট ফি। অন্তত একটি তেলের ট্যাঙ্কারকে এই পথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেতে প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইরানের লারাক দ্বীপের খুব কাছ দিয়ে একটি বিশেষ ‘নিয়ন্ত্রিত করিডোর’ নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত এই পথ দিয়েই অন্তত নয়টি জাহাজ পার হতে দেখা গেছে। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সরাসরি পর্যবেক্ষণে জাহাজগুলোকে স্ক্রিনিং করা। তেহরান বর্তমানে এমন একটি আইন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মাধ্যমে এই জলপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর আনুষ্ঠানিক ট্রানজিট ফি এবং ট্যাক্স আরোপ করা হবে। ইরান জানিয়েছে, আইআরজিসি পরিচালিত নিবন্ধন ও যাচাইকরণ ব্যবস্থার অধীনে জাহাজ চলাচলের এই সমন্বয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান অনুমোদন ছাড়া পারাপার নিষিদ্ধ করায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এই রুট। এই পরিস্থিতিতে ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া এবং চীন বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ক্লিয়ারেন্স বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা একটি জরুরি অধিবেশন ডেকে আটকে পড়া জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুরক্ষিত কাঠামোর দাবি জানিয়েছে।

সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ১৭টি ঘটনা নিশ্চিত করা গেছে। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণে ‘ওয়ার রিস্ক ইন্স্যুরেন্স’ বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বিমার প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক শিপিং কোম্পানি তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক এই অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে।

এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া জলপথে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এমন কঠোর অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here