জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বিয়েকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মারধর ফেরাতে গিয়ে আঘাত পেয়ে একজনের মৃত্যু ও ঘটনা দেখে স্ট্রোক করে অন্যজনের মৃত্যু হয়।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢুলভিটি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল রানা (৩৫) শাহজাহান আলীর ছেলে ও স্ট্রোক করে সেকেন্দার আলীর ছেলে মঞ্জু মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তি মারা যায়। তারা দুজনই উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢুলভিটি পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢুলভিটি গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের (২০) সঙ্গে গত ১ মাস আগে চাপারকোনা গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে রনির সঙ্গে বিয়ের জন্য ১ লাখ টাকায় কাবিন করে রাখা হয়। কাবিনের পর থেকে দুই পরিবারে মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে গত সোমবার রাতে কাবিন করে রাখা স্ত্রীকে নিতে শ্বশুর বাড়িতে আসেন রনি মিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন একই গ্রামের নাজমুল, চানু, মফিজ, সাগর, আলামিন ও নাছিম, কাকনসহ আরো অনেকেই। এ সময় মেয়ের বাবা লিটন মিয়া মেয়ে দিতে অনীহা প্রকাশ করলে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে লিটন মিয়ার পরিবারের লোকজন রনির ওপর হামলা করেন। শুরু হয় হাতাহাতি মারামারি। এ সময় হট্টগোলের সংবাদ পেয়ে প্রতিবেশী সোহেল রানা এগিয়ে আসেন। পরে তার শরীরে লিটন মিয়ার লোকজন লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ধানক্ষেতে পড়ে গিয়ে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে নিহত সোহেল রানার লাশ দেখে স্ট্রোক করে মঞ্জু মিয়া নামে এক যুবক মারা যায়। খবর পেয়ে নিহত সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিটনসহ পরিবারের লোকজন গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।