মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে এবার আরেকটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কুয়েতের আকাশে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে একটি অগ্নিদগ্ধ বিমান নিচের দিকে আছড়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। যদিও পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নিশানায় মার্কিন এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। গত রোববারও হরমুজ দ্বীপের কাছে একটি এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি করেছিল তেহরান। তবে এবারের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এটি হয়তো চলতি মাসের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশে ‘ভুলবশত’ বিধ্বস্ত হওয়া তিনটি মার্কিন বিমানের কোনো একটির নতুন দৃশ্যপট।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে ইরানের এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সময় মার্কিন বাহিনী আট হাজারেরও বেশি উড্ডয়ন করেছে এবং ইরানের গুলিতে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি স্বীকার করে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, সেটি কুয়েতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর কারণে হয়েছিল। তবে ইরান দাবি করছে, তাদের ধারাবাহিক সাফল্যে মার্কিন বিমান বহর এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
শুধু এফ-১৫ নয়, ইরান আরো দাবি করেছে যে তারা একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটারকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা বর্তমানে একটি আঞ্চলিক ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে রয়েছে। এছাড়া গত তিন সপ্তাহে অন্তত তিনটি ইসরায়েলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সবশেষ গত শনিবার ইরানের মধ্যাঞ্চলে একটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিতের খবর বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।