কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা: দায় স্বীকার করেনি কেউ

0
17
কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা: দায় স্বীকার করেনি কেউ

কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুলকাদির উরালুগ্লু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলার সময় জাহাজটিতে তুরস্কের ২৭ জন নাবিক অবস্থান করছিলেন।

তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজটির ক্রু সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলেও জানানো হয়েছে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম এনটিভি জানায়, হামলার শিকার হওয়া জাহাজটির মালিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠান ‘বেসিকতাস’। তবে জাহাজটি সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধিত। আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহনে এমন নিবন্ধন প্রচলিত থাকায় অনেক সময় জাহাজের মালিকানা ও পতাকার দেশের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।

জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এনটিভি আরও জানিয়েছে, ট্যাংকারটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। কৃষ্ণসাগরের নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহনের সময়ই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তুর্কি সংবাদপত্র ‘ইয়েনি শাফাক’ জানিয়েছে, এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা পক্ষ স্বীকার করেনি। ফলে হামলার পেছনে কারা রয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

কৃষ্ণসাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই সাগরপথ দিয়ে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেল, শস্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ ধরনের হামলার ঘটনায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বর্তমানে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।

যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কার্যত এই প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কৃষ্ণসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ভৌগোলিকভাবে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তুরস্ক এ অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর জন্য শুরু থেকেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে কৃষ্ণসাগরের এই হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here