টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় একই এলাকার পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট এখন শোকে স্তব্ধ।
শনিবার সকালে নিহতদের মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো নিজপাড়া গ্রাম। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মা ও সন্তানসহ নিকট আত্মীয়রা রয়েছেন, যারা ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিহতরা হলেন—নার্গিস বেগম (৪২) ও তার ছেলে নিরব (১২), সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা আক্তার (২৪) এবং দোলা বেগম (৪৫)। তারা সবাই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় একটি বেসরকারি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি বড় ছেলের বিয়ে উপলক্ষে তারা বাড়িতে এসেছিলেন। বিয়ের আনন্দ শেষ করে শুক্রবার রাতে একটি রিজার্ভ বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তারা। পথে বাসের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতগতির সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাদের চাপা দেয়।
নিহত নার্গিস বেগমের স্বামী হামিদুজ্জামান এই ঘটনায় সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, বড় ছেলের বিয়ের আনন্দ কাটতে না কাটতেই স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের হারিয়ে তার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেছে।
স্থানীয় ধাপেরহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন এই ঘটনাকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে এলাকায় জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে এবং পুরো গ্রামবাসী এই অকাল মৃত্যুতে শোকাহত।