যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন শর্ত, লক্ষ্য শত শত কোটি ডলার আয়

0
21
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন শর্ত, লক্ষ্য শত শত কোটি ডলার আয়

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে শান্তি আনতে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তেহরান দাবি করছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত হবে। পাশাপাশি এই নৌপথ ব্যবহার করা প্রতিটি জাহাজ থেকে নিয়মিত টোল আদায় করার পরিকল্পনা করছে ইরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ থেকে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয় হতে পারে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইরান হরমুজ প্রণালিকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে।

ইরানের আধা–সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি জানিয়েছেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করা কতটা সহজ ও সস্তা, তা ইরান ভালোভাবে বুঝেছে। এখন তারা টোল আদায়কে আয়ের নতুন উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে।’

ইরানের পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এটিকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে এমন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্ববাসীকে এ ধরণের হুমকির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম ভাষণেই স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর কোনো ধরনের অবরোধের সুযোগ তারা হাতছাড়া করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তাদের মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালের চেয়ে বেশি হতে পারে। সিএনএনের এক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করলে ইরানের মাসিক আয় ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি হবে।

তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকা বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আদায়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এ অবস্থায় কিছু জাহাজ নিরাপদ পারাপারের জন্য গোপনে ইরানকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

বিশ্বব্যাপী এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশাল। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য কৌশলগত শক্তি, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামে ও সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here