এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচেও সেই একই চেনা হতাশার গল্পে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে। আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ফুটবল উপহার দিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি জামাল ভূঁইয়াহীন লাল-সবুজের দল। বিপরীতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর। এই হারের মধ্য দিয়ে বাছাই পর্বের মিশন শেষ করল বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারিতে থাকা বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকের অকুণ্ঠ সমর্থনে উজ্জীবিত হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরী ও শোমিত সোমদের দূরদর্শী নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ সাজালেও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভেদ করা সম্ভব হয়নি। উল্টো ম্যাচের ৩১তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বসে দল। মাঝমাঠ থেকে আসা এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে গোলরক্ষক মিতুল মারমা প্রথম শটটি প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান হ্যারিস স্টুয়ার্ট। প্রথমার্ধের এই একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
বিরতির পর ম্যাচে ফিরতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সাদউদ্দিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও শেখ মোরসালিনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বেশ কিছু নিশ্চিত সুযোগ তৈরি হয়। তবে কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট শট আর কখনো দুর্ভাগ্যের কারণে সমতা ফেরানো যায়নি। বিশেষ করে ৭৯তম মিনিটে হামজার চমৎকার ক্রস থেকে মিরাজুল ইসলামের নেওয়া শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ম্যাচে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনলেও দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়াকে পুরো সময় বেঞ্চে বসিয়ে রাখা ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম লেগেও সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই লেগেই হারের তেতো স্বাদ নিতে হলো। ‘সি’ গ্রুপে ছয়টি ম্যাচ খেলে একটি জয়, দুটি ড্র এবং তিনটি হারে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে বাছাই পর্ব শেষ করল হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। অন্যদিকে, এই জয়ের সুবাদে শীর্ষস্থান ধরে রেখে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর।