মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত

0
23
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত

ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হয়েছে একটি বেসামরিক বিমান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয় ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থা মাহান এয়ার-এর বিমানটি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনীকে হামলার জন্য দায়ী করে তেহরান বলেছে, “এই হামলার ফলে একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশনের উদ্দেশ্যে বেসামরিক ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।”

দিল্লি থেকে ওই বিমানটির ১১ টন মানবিক সাহায্য (ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খাদ্য) আনার কথা ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। এই ঘটনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ১৬-১৭টি বাণিজ্যিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়েছিল। সেই হামলার সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল যে ওই উড়োজাহাজগুলো গোপনে নিয়ন্ত্রণ করত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) এবং কুদস ফোর্স এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্‌ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো পশ্চিম এশিয়ার শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করত।

তবে পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচারিত স্যাটেলাইটচিত্রে দাবি করা হয়েছে সেগুলি সাধারণ যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী বিমান ছিল। এ বার ইসরায়েল দাবি করেছে যে ইরানের সেনা এয়ার ইরান এবং মাহান এয়ারের মতো বাণিজ্যিক যাত্রিবাহী ফ্লাইট ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য অস্ত্র পরিবহণ করছে।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ ইরানে প্রথম মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সাহায্যকে ‘দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সভ্যতাগত ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক’ বলেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে বারেও ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমেই মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

সূত্র : এএফপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here