ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় এলাকা অন্ধকার থাকায় গ্রামবাসীর অনেকে টর্চ জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং করেছিল। ওই সময় খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা তাকে লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাথাড়ি মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর প্রতিবাদে মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। একই সময়ে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সমবেত হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা থানার এসআই মামুন জানান, রাতের অন্ধকারে সংঘর্ষটি তীব্র আকার ধারণ করলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে তা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন কিছুটা শান্ত থাকলেও জনমনে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।