ফরিদপুরের ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদে চার গ্রামের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে ভাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন মোল্লা। মামলায় এজাহারনামীয় ৬৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মুনসুরাবাদ গ্রামের সাজ্জাদ শেখ, মওদুদ শেখ, সিয়াম মোল্লা ও আরমান মাতুব্বর; খাপুরা গ্রামের লালন শিকদার ও শাহ আলম শেখ; মাঝিকান্দা গ্রামের ফয়েজ মিয়া, হবিবুর রহমান কাজী ও মো. মাইনুল ইসলাম; এবং সিংগারিয়া গ্রামের মো. রাকিব শেখ, মো. তারেক মোল্লা ও আইয়ুব মোল্লা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে মুনসুরাবাদ বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে মুনসুরাবাদ, খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং বারবার সতর্কবার্তা দেয়। তবে উত্তেজিত জনতা ছত্রভঙ্গ না হয়ে উল্টো পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ রামদা, কাতরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায়।
এই হামলায় এএসআই ডালিম মিয়া ও কনস্টেবল মশিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। আহত কনস্টেবল মশিউর রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং এএসআই ডালিম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচটি বাঁশের লাঠি, ২০টি ইটের টুকরো এবং ৩টি কাতরা জব্দ করেছে।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত চার গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত এই ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত শুক্র ও শনিবারের এই দফায় দফায় সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৬২ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যদেরও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।