২৪-এর অর্জন রক্ষা না করলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত আসিফ মাহমুদের

0
20
২৪-এর অর্জন রক্ষা না করলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত আসিফ মাহমুদের

২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অর্জন ও চেতনাকে যথাযথভাবে রক্ষা করা না হলে চলতি ২০২৬ কিংবা আগামী ২০২৭ সালে দেশে আবার বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে বলে কড়া ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “১৯৬৯ সালে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু সেই অভ্যুত্থানের অর্জনকে আমরা ধরে রাখতে পারিনি বলেই ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছিল। একইভাবে ২৪-এর রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করতে না পারলে ২০২৬ অথবা ২০২৭ সালে দেশে আরেকটি বড় কিছু ঘটে যেতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আগে দেশের ১৮টি গোয়েন্দা ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের ভেতরে প্রবেশের অবাধ ও অনৈতিক সুযোগ ছিল, যার ফলে চরমভাবে নাগরিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৪টি এজেন্সির হাতে ন্যস্ত করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান সরকার আবারও পূর্বের সেই নিয়ন্ত্রণমূলক ও স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে। এর ফলে কোনো নাগরিক নির্ভয়ে কারও সাথে কথা বলতে বা যোগাযোগ করতে পারবেন না, সবসময় কেউ না কেউ আড়ি পেতে থাকবে।

সরকার ক্রমশ স্বৈরাচারের দিকে ধাবিত হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এনসিপিকে অনেকেই ‘কিংস পার্টি’ বলে উপহাস করতেন। কিন্তু অতীত ইতিহাসে কিংস পার্টিগুলো যে ধরনের নোংরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জন্ম নিয়েছে, বর্তমান সরকারের মধ্যে আমরা আজ সেই সব কার্যাবলির হুবহু প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে একটি দল খুব সহজেই চরম স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে।

গণভোটের ইস্যু নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনেকেই না বুঝে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার গণভোটের সাথে এইবারের গণভোটের তুলনা করে গুলিয়ে ফেলছেন। কিন্তু এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণভোটের দাবিটি কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতার বৈধতা নেওয়ার জন্য নয়, এটি ছিল সরাসরি রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপক্ষে জনগণের রায় নেওয়ার জন্য।

সবশেষে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “আমরা মূলত নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক রাজনীতিতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যাবলি আমাদের আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় আকারের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here