লক্ষ্মীপুর পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী নেতাদের হাতাহাতি, ওসিসহ আহত ১০

0
25
লক্ষ্মীপুর পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী নেতাদের হাতাহাতি, ওসিসহ আহত ১০

লক্ষ্মীপুর শহরে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার মসজিদের সামনে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।

একই সময়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের একাংশের বিরুদ্ধে নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও শহরে একটি পাল্টা মিছিল বের করেন। সংঘর্ষ ও থমথমে পরিস্থিতির কারণে পুরো শহরের চকবাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ায় শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম এবং জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে আজ রোববার বিকেল ৫টায় চকবাজার মসজিদের সামনে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। অন্যদিকে, পাল্টা জবাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর ব্যানারে একই সময়ে ও একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পৌর শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা।

হাতাহাতির ঘটনায় ওসিসহ আহত ১০ জনের মধ্যে বাকিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। যদিও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী পরবর্তীতে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কেউ বর্তমানে আটক নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষকেই ছত্রভঙ্গ করে দুই দিকে সরিয়ে দিয়েছে।

এই সংঘর্ষের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম জানান, এটি ছাত্রদলের কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না, বরং ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর ব্যানারে সাধারণ ছাত্রদের প্রোগ্রাম ছিল। তাই এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here