তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশসহ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “গতকাল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়টি আমি পড়েছি। যেহেতু এটি সংবিধানের ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, তা চূড়ান্ত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকলে হাইকোর্ট সার্টিফিকেট দিতে পারে। আমরা সংবিধানের ব্যাখ্যার জন্য সেই সার্টিফিকেট চেয়েছিলাম। বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে যাওয়াই সমীচীন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের অবস্থান হলো— যেহেতু এখানে সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় রয়েছে, তাই দ্রুতই আপিল দায়ের করা হবে।”
এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই রায়ের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই বিধান বাতিল করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের (ম্যাজিস্ট্রেটদের) নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত ছিল। এর ফলে এখন থেকে এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একই সঙ্গে রায়ে ২০১৭ সালে প্রণীত বিচার বিভাগীয় শৃঙ্খলা বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের শৃঙ্খলা বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাতজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। রিটকারীদের মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদের কারণে বিচার বিভাগে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বজায় থাকে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতেই ছিল, যা পরবর্তীতে চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়।