মানিকগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে প্রতারণা, প্রবাসীর মা-বোন গ্রেফতার

0
36
মানিকগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে প্রতারণা, প্রবাসীর মা-বোন গ্রেফতার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজ শিক্ষার্থীর সঙ্গে দীর্ঘ আট বছর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী যুবক দিপুর (২৫) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে পলাতক থাকলেও তার মা মোসাম্মৎ বেগম (৫০) ও বোন রুপা আক্তার (৩৫)-কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গত ৫ এপ্রিল রাতে শিবালয় থানায় দিপুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রাইভেট পড়ার সুবাদে তাদের পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে দিপু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ রাতে দিপু শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়েও একই কাজ করে এবং এরপর থেকে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে।

গত ৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে দিপুর বাড়িতে গেলে দিপু ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গালাগাল করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় দিপুর বাবা শহর খলিফা, মা ও বোন মিলে তাকে মারধর করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে তাকে জোর করে রিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়, তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়। পরে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ উভয় পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। এমনকি বিয়ের পরিবর্তে তার পরিবারকে অর্থ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবালয় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত দিপু বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে তার মা ও বোনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, তারা এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ধারায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে ঠিকই, তবে তার মা ও বোনকে মারধরের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here