গ্যাস সংকটে ইউরিয়া সারের বড় ঘাটতি, আমন মৌসুম নিয়ে শঙ্কা

0
14
গ্যাস সংকটে ইউরিয়া সারের বড় ঘাটতি, আমন মৌসুম নিয়ে শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় দেশে ইউরিয়া সারের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মজুদ প্রায় ৬ লাখ টন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজার টন, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় চার লাখ টনের বেশি।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা ২৬ লাখ ২২ হাজার টন। সাধারণত নিরাপদ মজুদ হিসেবে ৪ থেকে ৫ লাখ টন রাখা হয়। কিন্তু বর্তমান মজুদ সেই মানের তুলনায় অনেক কম। জুন পর্যন্ত বিদ্যমান মজুদ দিয়ে চাহিদা কোনোভাবে পূরণ করা সম্ভব হলেও পরবর্তী আমন মৌসুমে বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, জুন পর্যন্ত ৬ লাখ টন মজুদের লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ দশমিক ১৭ লাখ টন। জ্বালানি সংকট এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

গ্যাস সংকটও পরিস্থিতিকে তীব্র করেছে। বিসিআইসির পাঁচটি সার কারখানার মধ্যে মাত্র একটি চালু রয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সার কারখানাগুলোর দৈনিক ৩২ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৭ কোটি ঘনফুট।

সরকার বিকল্প উৎস থেকে ইউরিয়া আমদানির চেষ্টা করছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ হাজার টন করে ইউরিয়া আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি চীন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, রাশিয়া ও বাহরাইনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বিসিআইসির পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, আমন মৌসুম সামনে রেখে তিন লাখ টন ইউরিয়া আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঘোড়াশাল-পলাশ, শাহজালাল ও কাফকো সার কারখানা চালু করা গেলে সংকট কিছুটা কমবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কারখানা বন্ধ থাকা এবং আমদানি ব্যাহত হওয়ায় মজুদ কমে গেছে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ মজুদ আছে, তা দিয়ে জুন পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করা যাবে।

কৃষিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ইউরিয়া সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, প্রয়োজনে অন্য খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে হলেও সার কারখানাগুলো সচল রাখা জরুরি, পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়াতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here