চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে ইতিহাস গড়া আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। আজ শনিবার সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।
সমুদ্রে অবতরণের পর মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে বলেন, “কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল! আমরা সবাই স্থিতিশীল আছি এবং চারজন নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।”
অবতরণের পরপরই নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি বিশেষ নৌযানে (যাকে ‘ফ্রন্ট পোর্চ’ বলা হয়) তোলা হয়। এরপর হেলিকপ্টারে করে তাঁদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’-তে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহাজের মেডিক্যাল বে-তে চিকিৎসকেরা তাঁদের নাড়ির গতি, রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। পরবর্তীতে নভোচারীদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।
নভোচারীরা নৌযানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোল সেন্টারে উপস্থিত সবাই করতালিতে ফেটে পড়েন।
১০ দিনের পরিকল্পিত অভিযানটি ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসা। গত ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মিশন।
এই অভিযানে একাধিক নতুন রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানকালে নভোচারীদের পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখার বিরল অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।
আর্টেমিস-২ মিশনটি ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ পাঠানোর নাসার বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।