নওগাঁ শহরের আনন্দ নগর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক সহকারী প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মোজাহারুল ইসলাম। তিনি সরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং আনন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এর আগেও কয়েকবার টাকা দিলেও গত ১২ মার্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তার ছোট মেয়েকে অপহরণ এবং বাড়িতে হামলারও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে পুনরায় টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাড়ির গেটে ককটেল নিক্ষেপ করেন তারা। বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মেহরাব হোসেন আদিত্ত (১৮), জুড়াইয়া আফরিন ডলি (৩৮) এবং আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নাকে (৪০) আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী রুবিয়া খাতুন জানান, অভিযুক্তরা এর আগেও তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা না দিলে তারা হুমকি, অপমান এবং তাদের সন্তানের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মেহরাব হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি মূলত পারিবারিক বিরোধের জের এবং চাঁদা দাবি বা ককটেল হামলার বিষয়টি সত্য নয়। অপর অভিযুক্ত আব্দুল মান্নানও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষককে চেনেন না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং প্রতিবাদ করলে মারধর ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখান। এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।