কবে, কোথায় হবে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য?

0
11
কবে, কোথায় হবে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য?

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে সংগীত জগতের একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান হলো।

আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানিয়েছেন, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে কিংবদন্তির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সকাল ১১টা থেকে মুম্বাইয়ের লোয়ার প্যারেলে তার নিজ বাসভবন ‘কাসা গ্রান্দে’-তে গুণগ্রাহীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আশা ভোঁসলের মরদেহ রাখা হবে। বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

এদিকে আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কিংবদন্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তিনি এক বার্তায় বলেন, আশা ভোঁসলে জির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর অসাধারণ সংগীতযাত্রা কয়েক দশক ধরে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। তাঁর কণ্ঠের বহুমুখিতা অতুলনীয়।

আশা ভোঁসলের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের এক সংগীত পরিবারে। তার বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহীন হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব পালনে বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তিনি সংগীতে পদার্পণ করেন।

১৯৪৩ সালে একটি মারাঠি সিনেমার মাধ্যমে তাঁর প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় এবং ১৯৪৮ সালে ‘চুনরিয়া’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক ঘটে।

শুরুর দিকে তাঁকে লতা মঙ্গেশকর বা শমশাদ বেগমের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের ছায়ার আড়ালে থাকতে হলেও পঞ্চাশের দশকে ও. পি. নাইয়ার এবং এস ডি বর্মনের সুরে তার প্রতিভার প্রকৃত বিকাশ ঘটে। সত্তর ও আশির দশকে আর ডি বর্মনের সঙ্গে তার জুটি আধুনিক পপ এবং ক্যাবারে গানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ‘উমরাও জান’ ছবির গজলের মাধ্যমে তিনি তাঁর কণ্ঠের ধ্রুপদী গভীরতা প্রমাণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করলেও পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে আর. ডি. বর্মনকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ সাত দশকের ক্যারিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে সম্মানিত করেছে। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ এবং একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন।

সংগীতের পাশাপাশি রান্নার প্রতি তার বিশেষ অনুরাগের কারণে বিশ্বজুড়ে ‘Asha’s’ নামে তার রেস্তোরাঁ চেইন রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here