বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি জাতির সাথে প্রতারণা ও গাদ্দারি করে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের আমলের ফ্যাসিবাদী বাকশালী কায়দাতেই জনগণের ওপর একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘১১ দলীয় ঐক্য’ আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রাজনীতির সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে যেভাবে তাদের (আওয়ামী লীগ) শাসকগোষ্ঠীকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে, তা মৃত্যুর চাইতেও অপমানজনক।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশ—সবকিছুই নিজেদের দখলে নিতে চায়। অথচ একাত্তরে বিএনপির জন্মই হয়নি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানকে সম্মান করলেও, স্বাধীনতার একক কৃতিত্ব একজনকে দেওয়ার মাধ্যমে অন্য যোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ৩১ দফা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্রিকেট বোর্ড পর্যন্ত সব জায়গায় নিজেদের লোক বসিয়ে ‘কু-অভ্যুত্থান’ শুরু করেছে।
বর্তমান সংসদীয় কার্যক্রমের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দল সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে। তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির জোরে জনমতের রায়কে উপেক্ষা করছে। এমনকি জুলাই জাদুঘরকেও তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকার গায়ের জোরে প্রত্যাখ্যান করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে জুলাই যোদ্ধাদের বসিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কাগজপত্র ছাড়াই জোর করে হাত তুলতে বলায়, তারা সেই ফাঁদে পা দেননি এবং ঘৃণা নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন।
শহীদদের নিয়ে রাজনীতির নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদরা কোনো দলের সম্পদ নয়, তারা জাতির গর্বিত সম্পদ। শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কোনো প্রকার ভাগ-বাঁটোয়ারা মেনে নেওয়া হবে না। আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
সবশেষে জামায়াত আমির দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, মিথ্যার সামনে মাথা নত না করে প্রয়োজনে ফাঁসির তক্তার ওপর দাঁড়ানোর জন্য তারা প্রস্তুত, তবুও অন্যায়ের সাথে আপস করবেন না। তিনি জানান, যতদিন সংসদের ভেতরে লড়াই করা সম্ভব, ততদিন তারা থাকবেন; অন্যথায় জনগণের কাছে ফিরে যাবেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।