ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক তরুণীকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিল। শনিবার (১১ এপ্রিল) ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, গত ২৬ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী তরুণী তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রথমে প্রেমিক তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে প্রেমিককে মারধর করে সরিয়ে দেয় এবং তরুণীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় আসামিদের একজন মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভয় ও লোকলজ্জার পর ভুক্তভোগীর পরিবার পুলিশের সহযোগিতা চাইলে গত ২৭ মার্চ ভিকটিমের ফুফু বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা ও মহেশপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ধর্ষণের ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এছাড়া ভিকটিমের জবানবন্দিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী আদালতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।