পুরাতনের সব ক্লান্তি, জীর্ণতা আর গ্লানিকে বিদায় জানিয়ে নতুনের আগমনী বার্তা নিয়ে আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সমাগত চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলা ১৪৩২ সনের আজ শেষ দিন। বসন্ত ঋতু ও বাংলা বর্ষ—উভয়কেই বিদায় জানিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উদিত হবে নতুন বছরের সূর্য; শুরু হবে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩।
আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যে চৈত্র সংক্রান্তি এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। মূলত এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় পহেলা বৈশাখের বিশাল উৎসবের প্রস্তুতি। জীর্ণ সবকিছু মুছে ফেলার প্রার্থনায় আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নানা আচার-অনুষ্ঠান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র অনুযায়ী স্নান, দান, ব্রত ও উপবাসের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করেন। লোকজ বিশ্বাসে এই দিনটি স্বামী, সংসার ও কৃষির মঙ্গলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চৈত্র সংক্রান্তির খাবারে থাকে বিশেষত্ব—আমিষ বর্জন করে এদিন মূলত নিরামিষ, শাকসবজি ও সাত রকমের তিতো খাবারের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে কৈ, শিং বা মাগুর মাছের ঝোল এবং বিল-ঝিল থেকে তুলে আনা হরেক রকম শাক রান্না করার প্রচলন গ্রামবাংলায় আজও টিকে আছে।
উৎসব উপলক্ষে গ্রামের নারীরা মাটির ঘরবাড়ি লেপে ঝকঝকে করেন। গোয়ালঘর পরিষ্কার করে গবাদি পশুকে স্নান করানো হয়। ঘরে ঘরে তৈরি হয় নকশি পিঠা, পায়েস ও নারকেলের নাড়ু। নতুন পোশাকে একে অন্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আপ্যায়নের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নেন গৃহস্থরা। অনেক পরিবারে এই দিনে মেয়ের জামাইকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রথাও প্রচলিত।
ব্যবসায়ীদের কাছে দিনটি বছর বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয় নতুন সাজে। পুরোনো বছরের হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে কাল পহেলা বৈশাখে নতুন খাতা বা ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন তারা। নতুন বছরের শুরুতে ক্রেতাদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা এই হালখাতা উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
চৈত্র সংক্রান্তি ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে লোকশিল্প প্রদর্শনী, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ। গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্বাদ দিতে মঞ্চস্থ হবে জনপ্রিয় যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’।
সব মিলিয়ে বিদায়ের সুর আর নতুনের আবাহনে মুখরিত আজ চৈত্র সংক্রান্তির প্রতিটি প্রহর।