যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির পরিবেশ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব সব পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বা পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
স্টিফেন দুজারিক বলেন, “একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সব পক্ষকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।” তাঁর ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম ও কূটনৈতিক উদ্যোগই উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ।
কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জাতিসংঘ মুখপাত্র জানান, পরবর্তী আলোচনা সফল করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। তাই যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা উসকানিমূলক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপকে আরও জোরদার করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশগুলোকেও সংযত ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে।
সূত্র অনুযায়ী, আল–জাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে, যেখানে জাতিসংঘের অবস্থান ও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনায় রূপান্তর করাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের এই আহ্বান সেই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।