শত্রুর ওপর চূড়ান্ত আঘাতের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

0
9
শত্রুর ওপর চূড়ান্ত আঘাতের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তারা শত্রুপক্ষের ওপর “চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী আঘাত” হানবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহরের বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি জানিয়েছে তারা যেকোনো ধরনের নতুন সামরিক আগ্রাসনের মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে যদি আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তারা শত্রুর বাকি থাকা সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম “বিধ্বংসী আঘাত” হানবে। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষকে আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে আইআরজিসি চলমান বা অঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়কালকে “নীরব যুদ্ধক্ষেত্র” হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এই সময়ে শত্রুপক্ষের প্রতিটি তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ থেমে আছে বলে কোনো পক্ষকেই দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান এবং তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি, সীমিত সংঘর্ষ এবং সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিভিন্ন সময় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি থাকলেও উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করার প্রচেষ্টাও চলছে। এর ফলে এই “নীরব যুদ্ধক্ষেত্র” আসলে ভবিষ্যৎ বড় সংঘাতের প্রস্তুতির একটি পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসির এ ধরনের কঠোর বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। তাদের মতে, বর্তমান অবস্থায় যেকোনো ছোট ঘটনা দ্রুত বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সামরিক হুঁশিয়ারি যত বাড়বে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ততই ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সব মিলিয়ে আইআরজিসির সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আপাতত কমার সম্ভাবনা কম। বরং পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও বড় পরিসরের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here