পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে জামায়াতের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে বিরোধীপক্ষ। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের কালিনজিরা সেতু এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জিল্লুর রহমান (৪৫) দাশমরিচ গ্রামের বাসিন্দা ও খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি। তিনি পেশায় শিক্ষক।
এ ঘটনায় স্থানীয় যুবক আব্দুর রহমান, শ্বপন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে জামায়াত। তাদের মধ্যে আব্দুর রহমান স্থানীয় বিএনপির কর্মী বলে দাবি জামায়াতের।
খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আবুল কালাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জিল্লুর রহমানকে ‘জান্নাতের টিকিট বেচতে কোথায় যাস’ বলে কটূক্তি করেন আব্দুর রহমান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে থাকা একজন রহমানকে দুটি চড় দেন। এর জেরে দুপুর থেকে আব্দুর রহমান ৮ থেকে ১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে জিল্লুর রহমানকে খুঁজতে থাকেন। পরে রাত ৮টার দিকে রাস্তায় পেয়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে নেতাকর্মী নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগার। তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেন।
রাত ১০টার দিকে থানার সামনে বক্তব্যে এমপি আলী আছগার বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পরে পুলিশের আশ্বাসে রাত ১১টার দিকে থানা সামনে থেকে সরেন তারা। ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। মামলারও প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে খানমরিচ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আব্দুর রহমান নামের অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদল তথা বিএনপির সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এই প্রপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।